প্রতি শীতেই দিল্লি–এনসিআর অঞ্চল তার বাসিন্দাদের সামনে এক চেনা, বিষণ্ণ দৃশ্য হাজির করে। আকাশ ম্লান হয়ে আসে, দৃশ্যমানতা কমে যায়, বাতাস হয়ে ওঠে প্রাণঘাতী । স্কুল বন্ধ বাধ্যতামূলক হয়ে পড়ে, হাসপাতালগুলো ভরে যায়, মানুষকে ঘরের ভিতরেই থাকতে পরামর্শ দেয় প্রশাসন — বসবাসের অযোগ্য ভুতুড়ে শহর হয়ে দাঁড়ায় রাজধানী । বার্ষিক এই সংকট মরশুমি ঘটনা র মত অবহেলিত হয়— অনিবার্য বলে স্বাভাবিক করে তোলা হয়,চেষ্টা করা হয় প্রাকৃতিক ফল বা আবহাওয়ার খেয়ালখুশির পরিণতি হিসেবে দেখানোর। কিন্তু যে বিপর্যয় প্রতিবছর নিয়ম করে সব অনুমান সঠিক প্রমাণ করে ফিরে আসে, তার মধ্যে প্রাকৃতিক খামখেয়াল বলে কিছু নেই। দিল্লির বায়ুদূষণ একটি রাজনৈতিক ট্র্যাজেডি—যার নিজস্ব চরিত্র আছে, নিজস্ব স্থপতিও আছে। এটি ইচ্ছাকৃত রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ফল।
বছরের পর বছর ধরে চিকিৎসক ও পরিবেশবিজ্ঞানীরা সতর্ক করে আসছেন। স্টেট অব গ্লোবাল এয়ার রিপোর্ট ২০২৪ জানাচ্ছে, ভারতে প্রতি বছর ২১ লক্ষেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয় বায়ুদূষণের কারণে। দিল্লি–এনসিআর অঞ্চলে প্রতি সাতটি মৃত্যুর একটি দূষিত বাতাসের সঙ্গে যুক্ত বলে অনুমান। এই পরিসংখ্যান ভয়াবহ। তবু সরকারের প্রতিক্রিয়ায় এটি সামান্য এক অসুবিধা — জনস্বাস্থ্য বিপর্যয় পরিস্থিতি হিসেবে গ্ণ্য হয়না । প্রশাসন বালখিল্য পরামর্শ জারি ক’রে, অনুল্লেখ্য কিছু আলংকারিক পদক্ষেপ নেয়,এবং দায় এড়িয়ে যায়— মানুষের দায় এটা মানিয়ে নেবার, সহ্য করার , এবং মুখ বুজে জীবন চালিয়ে যাবার।
কে শ্বাস নেবে, আর কে নেবে না!
দূষণকে প্রায়ই সবার সমস্যা বলে দেখা হয়। ধারণাটি খুবই সরল সন্দেহ নেই। দূষিত বাতাসের মুখোমুখি না হবার ক্ষমতা সরাসরি নির্ভর করে আর্থসামাজিক অবস্থানের উপর। সচ্ছল মানুষ ভালোভাবে ইনসুলেট করা বাড়িতে থাকতে পারেন, এয়ার পিউরিফায়ার ব্যবহার করতে পারেন, ব্যক্তিগত গাড়িতে চলেন, কর্ম-সময় নিয়ে নমনীয়তা থাকে, এবং ভালো চিকিৎসা পান। বিপরীতে, নিম্ন আয়ের মানুষের কাছে এগুলো পরিহাসের মত।
নির্মাণ শ্রমিক, সাফাইকর্মী, ফুটপাথ-বিক্রেতা, ডেলিভারি কর্মী, নিরাপত্তারক্ষী, পরিযায়ী শ্রমিক—এঁরা প্রত্যেকেই উচ্চ দূষণ-মাত্রাতেও বাইরে কাজ করতে বাধ্য হন। বাতাসের মান নিকৃষ্টতম হয়ে গেলেও তাঁদের কর্মজীবন থেমে যাওয়া অসম্ভব । নগর সম্প্রসারণ, যানজট, এবং সরকারি-স্তরে চরম অবহেলা তাঁদের দৈনন্দিন জীবনে গভীর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাঁদের কাছে বায়ুদূষণ কোনও AQI এর হিসেব নয় শুধু— দৈনন্দিনের অকরুণ বাস্তব।
২০২৫ সালের ১৮ ডিসেম্বর দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর একটি প্রতিবেদন বৈষম্যটিকে স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করেছে। রিপোর্টে দেখতে পাই, দিল্লির অকেজো লোকদেখানো দূষণ নিয়ন্ত্রণ-নীতি কীভাবে মাদানপুর খাদারের লেবার-চকে জড়ো হওয়া দিনমজুরদের জীবন ঝাঁঝরা করে দিচ্ছে।
স্বাস্থ্য না ক্ষুধা—বেছে নেওয়ার কোন রাস্তা নেই
প্রতিদিন দুপুরে প্রায় দেড়শো মানুষ লেবার চকে জড়ো হন,—দিনমজুরির কাজ মেলার আশায়, মূলত কন্সট্রাকশন সাইটে। এই শীতে জিআরএপি ৩ ও ৪-এর অধীনে কড়া দূষণবিরোধী ব্যবস্থা কার্যকর হতেই নির্মাণ ও ভাঙার কাজ হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়। রাতারাতি হাজার হাজার শ্রমিক একমাত্র উপার্জনের উৎস হারান।
তাঁদের মধ্যেই একজন ২৭ বছরের পরিযায়ী শ্রমিক দিলীপ। ছোট একটি ব্যাগে দুপুরের খাবার নিয়ে তিনি চকে দাঁড়িয়ে ছিলেন। দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানাচ্ছে, কাজ পেলে দিলীপের রোজগার দিনে প্রায় ৫০০ টাকা। প্রায় পাঁচ বছর ধরে তিনি এই কাজ করছেন। দিল্লিতে ভাইয়ের সঙ্গে ভাড়া ঘরে থাকেন; পরিবার থাকে লখনউয়ে।
“কাজ পেলে সাইটেই খাই। না পেলে বাড়ি ফিরে যাই,” তিনি জানিয়েছেন । “পরিস্থিতি খুব খারাপ।”
দিলীপ দিল্লির শ্রমমন্ত্রী ঘোষিত ১০ হাজার টাকার ক্ষতিপূরণের কথা শুনেছেন। কিন্তু সেই সাহায্য অধরাই থেকে গেছে। কারণ টাকা মিলবে কেবল সরকারি ভাবে নথিভুক্ত শ্রমিকদের। আধার ও প্যান কার্ড থাকলেও দিলীপের শ্রম কার্ড নেই—আর কোথায় কীভাবে তা পেতে হয়, তা-ও তিনি জানেন না।
“আমি জানিই না কোথায় গিয়ে নথিভুক্ত হতে হবে,” দিলীপের আক্ষেপ।
রাতে দিলীপের শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। চোখ জ্বলে। প্রথমে ভেবেছিলেন শীতের জন্য। পরে বুঝেছেন—বাতাসই তাঁকে অসুস্থ করে তুলছে। অথচ রাষ্ট্র তাকে এমন অবস্থায় ঠেলে দিয়েছে, যেখানে তাকে স্বাস্থ্য আর ক্ষুধার মধ্যে কোন একটাকেই বেছে নিতে হচ্ছে।
রাহুলের মতো দিনমজুরদের কাছে চিকিৎসা বলাবাহুল্য, এক বিলাসিতা। সরকারি হাসপাতালে গেলে সারাদিন লেগে যায় চিকিৎসা পেতে,একটা পুরো দিনের মজুরি চলে যায়—যা রাহুলদের মত শ্রমজীবীদের পক্ষে বহন করা অসম্ভব।
“আমরা সারা বছর গুড় কিনে খাই,” রাহুল জানিয়েছেন—ডাক্তারের বদলে ঘরোয়া টোটকার উপর নির্ভর না করে উপায়ই বা কী!
লেবার চকের কাছেই ঘিঞ্জি বস্তি এলাকা, সেখানে বহু শ্রমিক থাকেন। ৫০ বছরের মিস্ত্রি সুন্দরী দেবী আর ৩৫ বছরের বিমলা কাজ না পেয়ে বসে ছিলেন। খাদ্য অনিশ্চয়তা তাঁদের কাছে নিত্যদিনের বিষয়।
“একদিন রুটি খাই, পরদিন শুধু চাটনি,” সুন্দরী বলছিলেন। তাঁর শ্রম কার্ড আছে, কিন্তু রিনিউ করতে গিয়ে সরকারি ফিতের ফাঁসে আটকে গেছেন।
বিমলা আবার জানেনই না শ্রম কার্ড কী। তিনি জানালেন , দূষণ-নিয়ন্ত্রণ বিধিগুলি জারি থাকাকালীন কাজ করলে পুলিশ মাঝেমধ্যেই শ্রমিকদের ‘বেআইনি’ বলে তুলে নিয়ে যায়। অথচ কাজ বন্ধ হলে কোনও বিকল্প আয়ের ব্যবস্থাও নেই।
“প্রতি বছরই তো এটা হয়,কিন্তু আমরা অন্য কাজ পাব কোথায়? কংক্রিট মেশাতে গিয়ে কাশি আসে, তবু উপায় কী?”তিনি জানান।দিল্লির দূষণ -নীতির আমলাতান্ত্রিক নিষ্ঠুরতা ও উদাসীনতা এতে বুঝতে অসুবিধা হয় না: জনস্বাস্থ্যের নামে কাজ বন্ধ হয়, কিন্তু যাঁদের জীবন সেই কাজের উপর নির্ভর করে, তাঁদের জন্য কোনও বিকল্প ব্যবস্থার নিরাপত্তা নেই।
কাগজে কল্যাণ, বাস্তবে বঞ্চনা
নথি অনুযায়ী, দিল্লি বিল্ডিং অ্যান্ড আদার কনস্ট্রাকশন ওয়ার্কার্স ওয়েলফেয়ার বোর্ডে নথিভুক্ত শ্রমিকের সংখ্যা ২.৫৭ লক্ষ। কিন্তু কর্মীরা বলছেন, বাস্তবে সংখ্যা তার তিন থেকে চার গুণ বেশি।
সেন্টার ফর হোলিস্টিক ডেভেলপমেন্ট-এর নির্বাহী পরিচালক সুনীল কুমার আলেদিয়া জানালেন সচেতনতার অভাব, অনলাইন পোর্টালের জটিলতা, আবেদন ঝুলে থাকা এবং দালালচক্র—এই সব মিলিয়ে শ্রমিকরা নথিভুক্ত হতে পারেন না।২০১৮ পর্যন্ত সরকার সরাসরি রেজিস্ট্রেশন শিবির করত। সেগুলি বন্ধ হয়ে অনলাইন হওয়ায় বঞ্চনা আরও বেড়েছে। ফলে দূষণের সময় ক্ষতিপূরণের ঘোষণা অনেক ক্ষেত্রেই রাজনৈতিক কৌশল—বাস্তবে সে সাহায্য মরিচীকা।
জনস্বাস্থ্যের শিকেয় তুলে লোকরঞ্জন
মানুষ যখন ন্যূনতম প্রয়োজন নিয়ে লড়ছে, তখন শাসকের চোখ অন্য ফিকিরে। এ বছর দিল্লি সরকার আদালতে গিয়ে দীপাবলিতে বাজি পোড়ানোর অনুমতি চেয়েছে—পরিবেশবিদদের বারংবারের সতর্কতা উপেক্ষা করে। ‘গ্রিন ক্র্যাকার’ অনুমোদিত হল, প্রয়োগ ছিল ঢিলেঢালা, দূষণ স্বাভাবিক ভাবে অবশ্যম্ভাবী। নীতিগত ব্যর্থতা নয়—এটি একটি হিসেবি নির্বাচনী তোষণ। আসন্ন ভোট আর উত্তপ্ত সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপটে সরকার মানুষের বেঁচে থাকার চেয়ে তোষণের প্রতীকী রাজনীতি বেছে নেয়,কারণ সেটা সমস্যা সমাধানের চেয়ে সহজ। শ্বাসকষ্টের বিপর্যয় থেকে ধর্মীয় তোষণ গুরুত্বপূর্ণ —ভোটের বাজারে।আদালতের অনুমতি আর খুচরো কিছু শর্ত সরকারের দায় এড়ানোর জন্য অবাধ অজুহাতের সুযোগ।‘গ্রিন ক্র্যাকার’ অনুমতি পাওয়ার পর যেটুকু যা নিয়ন্ত্রণ ছিল পুরোটাই ভেঙে পড়ে—দূষণ কার্যত আউটসোর্স হয়: অনুমোদন আদালতের, সহ্য করার দায়িত্ব নাগরিকের।‘গ্রিন ক্র্যাকার’-এর পরিবেশগত লাভ নামমাত্র। কিন্তু এর আদর্শিক ভূমিকাটা লাভজনক —রাষ্ট্রকে পরিবেশ-সচেতন দেখানোর ভান, আর সংখ্যাগুরুর সাংস্কৃতিক আবেগকে তুষ্ট করা। পরিপ্রেক্ষিতটাই নিমেষে বদলে যায়— জীবনের ক্ষতি-রোধ থেকে কতটা ক্ষতি রাজনৈতিক-সুবিধার জন্য সহনীয়।পরিণতি অনুমেয়। দীপাবলির পরদিন দূষণ চার বছরের সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছয়। হাসপাতাল ভরে যায়। দায় নেওয়ার বদলে সরকারের চরম লোকদেখানোপনা —ক্লাউড সিডিংয়ের মতো অনিশ্চিত প্রস্তাব, তথ্য নিয়ে তর্ক, বিভিন্ন দপ্তরের পারস্পরিক দোষারোপ চলতে থাকে। আর অবশ্যই সরকারি দপ্তরে নিঃশব্দে বসে যায় দামি এয়ার পিউরিফায়ার। সুতরাং ক্ষমতাবানরা পরিষ্কার বাতাস পাবে—শহরের অবস্থা যাই হোক।
প্রতিবাদ দমন, শ্বাসরোধকে স্বাভাবিক করা
ক্ষোভে মানুষ রাস্তায় নামেন। ছাত্র, শ্রমিক, পরিবেশকর্মী—সকলেই জবাবদিহি চান। সরকারের প্রতিক্রিয়া দমন ছাড়া আর কী বা হতে পারে! ইন্ডিয়া গেটে শিশু ও বৃদ্ধসহ শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদীরা গ্রেফতার হন। বাঁচার দাবিকে আইনশৃঙ্খলার সমস্যায় পরিণত করে সরকার। ১৮ নভেম্বর যন্তরমন্তরে শত শত মানুষ জড়ো হয়েছিলেন—তাৎক্ষণিক ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের দাবিতে। —দূষণ শুধু পরিবেশের নয়, রাজনৈতিক সমস্যাও ––এই ছিল প্রতিবাদীদের বক্তব্য। এই দাবি বা দাবিকে ঘিরে প্রতিবাদের উপর নির্বিচার দমননীতি চালানো কোন বিচ্ছিন্ন বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। শিক্ষার্থী, শ্রমিক, সংখ্যালঘু—সব ক্ষেত্রেই বিজেপি সরকার বস্তুগত দাবিকে ‘বিশৃঙ্খলা’ বলে চিহ্নিত করে নজর ঘোরাতে চায়।
রাজনৈতিক মূল্যবোধের শ্রেণিবিন্যাসটি স্পষ্ট : জীবনের উপর শৃঙ্খলা, বেঁচে থাকার উপর স্থিতাবস্থা, জনস্বাস্থ্যের উপর প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ। পরিষ্কার বাতাস দরকষাকষির বিষয় এদের কাছে–প্রতিবাদ অপরাধ, সহ্য করাটাই নাগরিক দায়িত্ব। এই অর্থে দিল্লির দূষণ সংকট রাজনৈতিক। কাঠামো বদলানোর বদলে জনতাকে ‘দু-ঘা’ দিয়ে ‘সংকট মোচন’করা হয়। শ্বাসরোধ আর দমন চলছে,মানুষও শ্বাস নেবার লড়াই লড়ছেন।
সমাধান জানা—তবে সরকারি সদিচ্ছা কেন নেই,তাও জানা—
সমাধান জানা। বিজ্ঞান বহু দিন ধরেই পথ দেখাচ্ছে: শক্তিশালী গণপরিবহন,
বিস্তৃত মেট্রো, দূষণ বাড়লে ব্যক্তিগত গাড়িতে নিয়ন্ত্রণ, শিল্প নির্গমনে কড়াকড়ি এগুলো কিছু নতুন কথা নয়।চরম দূষণে নির্মাণ বন্ধ করা হোক—কিন্তু শ্রমিকের আয় সুরক্ষার শর্তে। জরুরি স্বাস্থ্যপরিষেবা দরকার এবং সেবিষয়ে স্বচ্ছ নজরদারি। বাধা প্রযুক্তিগত নয়—রাজনৈতিক। কর্পোরেট স্বার্থের সঙ্গে সংঘর্ষ ছাড়া অবস্থার উন্নতি অসম্ভব । এই সরকার সে পথে যেতে স্বভাবতই অনিচ্ছুক।
অনন্ত সংকট—যদি প্রতিরোধ শক্তিশালী না হয়
দিল্লির দূষণ এখন বছরভর। শীতের কটু বাতাস, গ্রীষ্মের অসহনীয় তাপ—সবচেয়ে ভুগছেন দুর্বলরা। পরিষ্কার বাতাস শ্রমজীবির অধিকার, গণতন্ত্র আর সামাজিক ন্যায়ের লড়াইয়ের সঙ্গেই যুক্ত। শুদ্ধ বাতাস বিলাসিতা নয়—মানবাধিকার। দিলীপ, রাহুল, সুন্দরী, বিমলার অভিজ্ঞতা বলে—দূষণ নীতির ফল ক্ষুধা, শ্বাসকষ্ট, অপমান। দিল্লির বাতাস দুর্ঘটনায় বিষাক্ত হয়নি—কর্পোরেট-বান্ধব রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ফল।
দিল্লির রাজনৈতিক অর্থনীতি রিয়েল এস্টেট–অটোমোবাইল নেক্সাসে বন্দি।গণপরিবহনযোগ্য বাসের থেকে এক্সপ্রেসওয়ে, শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে পাড়ার মত পাড়ার থেকে গেটেড প্রকল্প, পরিবেশের চেয়ে নির্মাণের গতি গুরুত্ব বেশি—এটাই উন্নয়নের মডেল। এখানে দূষণ ‘কোল্যাটারাল ড্যামেজ’। রাষ্ট্রের তৎপরতা আসলে অস্থায়ী, নির্বাচনমুখী। কাজ বন্ধ হয়, কিন্তু শ্রমিকের বাঁচতে চাওয়া মূল্যহীন । ব্যক্তিগত গাড়ির রাজত্ব, কিন্তু গণপরিবহন উপেক্ষিত। শীত এলে জরুরি ব্যবস্থা—কিন্তু কাঠামোগত সংশোধন সরকারি নীতিতে অচ্ছুত। দিল্লির সামনে তাই স্পষ্ট রাজনৈতিক পথ। বর্তমান পথে চলবে—অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা, বঞ্চনা, দমন—আর শ্রমজীবী মানুষ ফুসফুস দিয়ে তার দাম দেবেন। আর জনস্বাস্থ্যের ভিত্তিতে শহর পুনর্গঠন করতে হলে চাই—গণপরিবহন বৃদ্ধি, ব্যক্তিগত যান নিয়ন্ত্রণ, পরিবেশজনিত বন্ধে শ্রমজীবীর আয় সুরক্ষা , নির্গমন-সংক্রান্ত কঠোর আইন, পরিষ্কার বাতাসকে দেখতে হবে মৌলিক পরিকাঠামোর মর্যাদায়। মাঝামাঝি কিছু নেই। পুঁজির জন্য সংগঠিত শহর শ্বাসকে শ্রেণি-ভিত্তিক করবেই। আর জীবনের জন্য সংগঠিত শহরকে ক্ষমতা, জায়গা আর সম্পদ পুনর্বণ্টন করতেই হবে। যত দিন না তার জন্য প্রবল লড়াই সংগঠিত হয়, দিল্লির শীত মানেই এক উন্নয়ন মডেলের প্রাণান্তকর মার —যে মডেল বিস্তার শিখেছে, মানুষকে দমবন্ধ করেই।
Editorial Board Member of Alternative Viewpoint