পাকিস্তান-শাসিত জম্মু-কাশ্মীরের জনগণ সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম রক্তক্ষয়ী রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়নের শিকার। অর্থনৈতিক ও গণতান্ত্রিক দাবিকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা একটি গণআন্দোলনের জবাবে কারফিউ, যোগাযোগব্যবস্থা বন্ধ করে দেওয়া, গুলি চালানো এবং ব্যপক গণশাস্তির আশ্রয় নেওয়া হয়েছে। পাকিস্তান-শাসিত জম্মু-কাশ্মীরের প্রশাসন আরও একবার পাকিস্তানি রাষ্ট্রের এক পুতুল প্রশাসন হিসেবে নিজেদের খাড়া করেছে।তারা জনগণের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার প্রতি দৃকপাত না করে ইসলামাবাদের নির্ধারিত নীতি বাস্তবায়িত করছে।
জম্মু কাশ্মীর জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি (JAAC) গত কয়েক মাস ধরে অর্থনৈতিক ও গণতান্ত্রিক দাবির ভিত্তিতে আন্দোলন চালানোর পর, ৯ জুন তারিখে লং মার্চ শুরুর ঘোষণা করেছিল। ন্যায়সঙ্গত দাবিগুলি বিবেচনা করার পরিবর্তে পাকিস্তানি রাষ্ট্র ৫ জুন থেকেই ব্যাপক দমন-পীড়ন শুরু করে। ইন্টারনেট ও মোবাইল পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়, ধরপাকড় ও গ্রেফতার তীব্রতর করা হয় এবং নিরাপত্তাবাহিনী আন্দোলন ব্যাপক আকার ধারণ করার আগেই তা দমন করার চেষ্টা চালায়।
৫ জুন থেকে ২৭ জুলাইয়ের মধ্যে অন্তত ৪৫ জন মানুষ শহীদ হয়েছেন। দমন-পীড়ন সত্ত্বেও হাজার হাজার মানুষ রাওয়ালাকোট শহরের উপকণ্ঠে অবস্থান-বিক্ষোভে বসেন। শাসক বারবার বলপ্রয়োগ করে তাঁদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে।তা সত্ত্বেও তাঁরা সেখানে অবস্থান বজায় রাখেন। এই পুরো সময়কালে JAAC ধারাবাহিকভাবে শান্তিপূর্ণ আলোচনায় বসে আলোচনার মাধ্যমে সংকটের সমাধানের জন্য প্রস্তাব রেখে গেছে। পাকিস্তানি রাষ্ট্র বারবার এই আলোচনাগুলিকে কালক্ষেপের কৌশল হিসেবে ব্যবহার করেছে এবং একই সঙ্গে দমন-পীড়নও চালিয়ে গেছে। আরও হিংস্র আক্রমণ নামানোর প্রস্তুতি নিয়েছে।
২৭ জুলাই লং মার্চ শুরু হয়। কারফিউ ও রাষ্ট্রীয় ভীতিপ্রদর্শন অমান্য করে হাজার হাজার মানুষ রাওয়ালাকোটের দিকে এগিয়ে যান। নিরাপত্তাবাহিনী নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীদের উপর গুলি চালায় এবং ২১ জনকে হত্যা করে। এই হত্যাকাণ্ড সত্ত্বেও জনগণ রেঞ্জার্সদের (আধাসামরিক বাহিনী) প্রতিহত করতে সক্ষম হন এবং তাঁদের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখেন।
২৮ জুলাই রাওয়ালাকোট, মিরপুর এবং পাকিস্তান-শাসিত জম্মু-কাশ্মীরের অন্যান্য শহরে আরও ১৪ জন নিহত হওয়ার মধ্য দিয়ে দমন-পীড়ন আরও ভয়াবহ রূপ নেয়।
নিপীড়ন কেবল প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। আন্দোলন ভাঙার উদ্দেশ্যে পাকিস্তানি রাষ্ট্র পরিকল্পিতভাবে খাদ্য সরবরাহে বাধা দিয়েছে এবং রাওয়ালাকোটে হাসপাতালগুলিতে মানুষের পরিষেবা পাওয়ায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে। এই সমস্ত পদক্ষেপ মৌলিক গণতান্ত্রিক অধিকার ও মানুষের মর্যাদার উপর এক গুরুতর আঘাত এবং গণশাস্তির শামিল।
আমরা বিশ্বের শ্রমজীবী মানুষ, ছাত্রছাত্রী, শিক্ষাবিদ, ট্রেড ইউনিয়ন, গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল এবং সমাজতান্ত্রিক সংগঠনগুলির কাছে জম্মু-কাশ্মীরের জনগণের পাশে দাঁড়ানোর এবং সংহতি প্রকাশের আহ্বান জানাচ্ছি।
আমরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সংগঠন ও কর্মীদের নিজ নিজ দেশে পাকিস্তানি দূতাবাস ও কনস্যুলেটের সামনে বিক্ষোভ সংগঠিত করার এবং পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ফেডারেল মিনিস্টার ফর কাশ্মীর অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড গিলগিট-বালতিস্তান (নিচে উল্লেখিত) এবং পাকিস্তানি কূটনৈতিক মিশনগুলিতে প্রতিবাদপত্র/ইমেল পাঠানোর আহ্বান জানাচ্ছি। সেখানে নিম্নলিখিত দাবিগুলি জানাতে হবে:
- অবিলম্বে হত্যাকাণ্ড বন্ধ করতে হবে;
- রাস্তাঘাট থেকে নিরাপত্তাবাহিনী প্রত্যাহার করতে হবে;
- ইন্টারনেট ও মোবাইল পরিষেবা পুনরায় চালু করতে হবে;
- খাদ্য সরবরাহ ও চিকিৎসা পরিষেবায় অবাধ অধিকার নিশ্চিত করতে হবে;
- আটক সমস্ত বিক্ষোভকারীকে মুক্তি দিতে হবে;
- সমস্ত হত্যাকাণ্ডের স্বাধীন তদন্ত করতে হবে।
জম্মু-কাশ্মীরের জনগণ অসহ দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে অপরিসীম সাহসের সঙ্গে প্রতিরোধ গড়ে তুলছেন। তাঁদের সংগ্রামের প্রতি শ্রমিক, ছাত্রছাত্রী এবং গণতন্ত্র ও নিপীড়িত জনগণের নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকারে বিশ্বাসী প্রত্যেকের সক্রিয় সংহতি প্রাপ্য।
ইমেল ঠিকানা:
ফেডারেল মিনিস্টার ফর কাশ্মীর অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড গিলগিট-বালতিস্তান: [email protected]
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়: [email protected]
নিম্নলিখিত সংগঠনগুলি যৌথভাবে একটি বিবৃতি প্রকাশ করে পাকিস্তান-প্রশাসিত জম্মু-কাশ্মীরের জনগণের সঙ্গে সংহতি প্রকাশের আহ্বান জানাচ্ছে।
জম্মু কাশ্মীর ন্যাশনাল স্টুডেন্টস ফেডারেশন (JKNSF)
জম্মু কাশ্মীর ন্যাশনাল আওয়ামি পার্টি (JKNAP)
জম্মু কাশ্মীর লিবারেশন ফ্রন্ট (JKLF/সগীর)
জম্মু কাশ্মীর লিবারেশন ফ্রন্ট (JKLF/ইয়াসিন)
জম্মু কাশ্মীর স্টুডেন্টস লিবারেশন ফ্রন্ট (JKSLF)
পিপলস রেভলিউশনারি ফ্রন্ট (PRF)
ডেইলি জেদ্দোজেহাদ ডটকম
সাউথ এশিয়ান সলিডারিটি নেটওয়ার্ক ইউএসএ (SASN)
